বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা"
আমার সোনার বাংলা গানটি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। এ গানের রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গানটি রচিত হয়েছিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এ গানটির প্রথম দশ লাইন সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয়সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল প্রথম চার লাইন বাদন করা হয়।
ইতিহাস
রচনা ও সুরারোপ
আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। গানটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, তাই এর সঠিক রচনাকাল জানা যায় না। সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিল। এই বছরই ৭ সেপ্টেম্বর (১৩১২ বঙ্গাব্দের ২২ ভাদ্র) সঞ্জীবনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের সাক্ষরে গানটি মুদ্রিত হয়। এই বছর বঙ্গদর্শন পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যাতেও গানটি মুদ্রিত হয়েছিল। তবে ৭ অগস্ট উক্ত সভায় এই গানটি গীত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিশিষ্ট রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের মতে, আমার সোনার বাংলা ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গীত হয়েছিল।
আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল শিলাইদহের ডাক-পিয়ন গগন হরকরা রচিত আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে গানটির সুরের অনুষঙ্গে। সরলা দেবী চৌধুরানী ইতিপূর্বে ১৩০৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে তাঁর শতগান
সংকলনে গগন হরকরা রচিত গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথের বঙ্গভঙ্গ-সমসাময়িক অনেক স্বদেশী গানের সুরই এই স্বরলিপি
গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছিল। যদিও পূর্ববঙ্গের বাউল ও ভাটিয়ালি
সুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি ইতিপূর্বেই হয়েছিল বলে জানা যায়।
১৮৮৯-১৯০১ সময়কালে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারির কাজে ভ্রমণ ও
বসবাসের সময় বাংলার লোকজ সুরের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ঘটে। তারই অভিপ্রকাশ
রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী আন্দোলনের সমসাময়িক গানগুলি, বিশেষত আমার সোনার বাংলা।
যেভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ। পরে ৩ মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়।
গানের কথা
| বাংলা লিপিতে | ইংরেজি প্রতিবর্ণীকরণ | অনুবাদ (সৈয়দ আলী আহসান কৃত) |
|---|---|---|
| আমার সোনার বাংলা
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। |
Amar Shonar Bangla
Amar shonar Bangla, Ami tomae bhalobashi. |
My beloved Bengal
My Bengal of Gold, I love you. |
| চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। |
Chirodin tomar akash, Tomar batash, Amar prane bajae bãshi. |
Forever your skies, Your air set my heart in tune As if it were a flute. |
| ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে-- মরি হায়, হায় রে ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা খেতে, আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।। |
O ma, Phagune tor amer bone Ghrane pagol kôre, Mori hae, hae re, O ma, Ôghrane tor bhôra khete Ami ki dekhechhi modhur hashi. |
In spring, O mother mine, The fragrance from your mango groves Makes me wild with joy, Ah, what a thrill! In autumn, O mother mine, In the full blossomed paddy fields I have seen spread all over sweet smiles. |
| কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। |
Ki shobha, ki chhaea go, Ki sneho, ki maea go, Ki ãchol bichhaeechho Bôţer mule, Nodir kule kule! |
Ah, what beauty, what shades, What an affection, and what tenderness! What a quilt have you spread At the feet of banyan trees And along the banks of rivers! |
| মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো-- মরি হায়, হায় রে মা, তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি।। |
Ma, tor mukher bani Amar kane lage, Shudhar môto, Mori hae, hae re, Ma, tor bôdonkhani molin hole, Ami nôeon jôle bhashi. |
O mother mine, words from your lips Are like nectar to my ears. Ah, what a thrill! If sadness, O mother mine, Casts a gloom on your face, My eyes are filled with tears! |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন